ফরিদপুরে হাসান হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের কানাইপুরে হাসান শেখ হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় প্রত্যেককে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের স্পেশাল জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের মোসা. ফরিদা বেগম, ফারুক বিশ্বাস, চান্দু শেখ ও শাহজাহান মাতুব্বর। তাদের মধ্যে ফরিদা বেগম পলাতক। রায় ঘোষণার সময় অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা ইতিমধ্যে যে সাজা ভোগ করেছেন, তা তাদের দণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে ২০১৮ সালের ৯ মে রাত থেকে ১৩ মে বিকেলের মধ্যে ঝাউখোলা এলাকার ইমাম উদ্দিন শেখের ছেলে হাসান শেখকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ একটি বস্তায় ভরে ফেলে রাখা হয়। ১৩ মে বিকেলে ঝাউখোলা গ্রামের একটি আখখেতে স্থানীয়রা কাজ করার সময় দুর্গন্ধ পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান। তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘদিন সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মো. আজিজুর রহমান বিকু বলেন, মামলার ৬ আসামির মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।


