logo

রাত থেকে পাম্পে সিরিয়াল, ভোগান্তিতে নারী বাইকাররা

রাত থেকে পাম্পে সিরিয়াল, ভোগান্তিতে নারী বাইকাররা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানি সংকটে জামালপুরের পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। ঈদের আগে থেকেই বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, এখন নারীদেরও সেই লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।  

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে শহরের জাবেদ ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, পুরুষের পাশাপাশি নারী বাইকাররাও তেল সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এতে সিমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

তেল নিতে আসা নারী ফাহমিদা বলেন, ‌‌‘আমি টিউশন করে সংসার চালাই, টিউশনের জন্য আমাকে অনেক দূরে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গণপরিবহনে চলাচল করলে আমার উপার্জনের বড় অংশই ভাড়ায় খরচ হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে অনেক আগেই এই গাড়িটা কিনেছি, এখন তেল নিতে এসেছি। দেখি পাওয়া যায় কি না। প্রশাসনের উচিত নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করার।’

অন্যদিকে তেলের জন্য মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকেই অনেক পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। লাইনে থাকা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মো. সুমন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৫০ টাকার তেল চাইছি দেই নাই। তেলের জন্য বাড়ি যেতে পারি নাই, বাধ্য হয়ে গাড়ি নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে এখানেই ঘুমাইছি। কি করব, বাড়ি যেতে পারি নাই, তেল ছাড়া গাড়ি নিয়ে এতো রাতে যাব কীভাবে। কখন তেল দেবে তা-ও জানি না। রাত ৯টার সময় এই পাম্পের কাছে আসছি, তখনই এখানে তেল দেওয়া শেষ করে দিছে। সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ট্যাগ অফিসারের কাজ গ্রাহকরা তেল পাচ্ছে কি না, সেটা খেয়াল রাখা। কিন্তু কোথায়, তাদের তো দেখাও যাচ্ছে না।’

তার মতো রাত ১০টা থেকে বিভিন্ন পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে রাত ২টা থেকে এই পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন বুরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, সিরিয়াল যখন কাছাকাছি চলে আসে, তখন তেল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানানো হয়, সকাল ১০টা থেকে তেল দেওয়া হবে। তাই বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. বাবুল আলি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। যা পাচ্ছি, ততটুকুই দিয়ে দিচ্ছি। গ্রাহকের সংখ্যা অনেক।