স্কুল ফিডিংয়ের ডিম খেয়ে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ, ৫ স্কুলে বিতরণ বন্ধ

স্কুলে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ডিম দেওয়া হচ্ছিল। তবে সেই ডিম খেয়ে দুই শিক্ষার্থী বমি করলে বেরিয়ে আসে অস্বাভাবিক তিতা স্বাদের অভিযোগ। বিষয়টি নিশ্চিত হতে শিক্ষকরাও ডিম মুখে দিয়ে তীব্র তিতা স্বাদ পান। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় ডিম বিতরণ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই বিদ্যালয়সহ উপজেলার মোট পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিম সরবরাহ ও বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার জানান, সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় ডিম খাওয়ার পর দুজন শিক্ষার্থী বমি করে এবং ডিমে তীব্র তিতা স্বাদ পাওয়ার কথা জানায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কয়েকজন শিক্ষক নিজেরাও ডিম মুখে দিয়ে পরীক্ষা করেন এবং তারাও তীব্র তিতা স্বাদ পান। এরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম বিতরণ বন্ধ রেখে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জানানো হয়।
প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ডিম তিতা লাগার বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে তা খাওয়া থেকে বিরত রাখি। পরে শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি জানালে তিনি সব ডিম পরিবেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুপারভাইজার বশির উদ্দিন। তিনি সরবরাহ করা ডিম পরীক্ষা করে নিজেও কিছুটা তিতা স্বাদ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। বশির উদ্দিন বলেন, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে জেনেছি, কৃমিনাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া মুরগির কিছু ডিমে এমন তিতা স্বাদ হতে পারে। তবে বিষয়টি আরও বিস্তারিত যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান খান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ডিম বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তিনি আরও জানান, ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও হরিরামপুর, চরশালিপুর, আজিজ মোহাম্মদ আলী বেপারীর ডাঙ্গী এবং পদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিম বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ডিম খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিমগুলো দ্রুত ল্যাবে পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।
মাফুজা নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, একজন ডিম খেয়ে বমি করার পর শিক্ষকরা আমাদের আর ডিম খেতে দেননি।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, বিষয়টি জানার পর ডিম সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
