গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানসহ জড়িতদের বিচারের দাবি

ময়মনসিংহে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস পালন করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। এ উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীতে র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অধিকার ময়মনসিংহের সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) ময়মনসিংহ জেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুবুল আলম, গুমের শিকার গোলাম মোস্তফা, সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল ও মহানগর জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুল বারী।
গুমের শিকার গোলাম মোস্তফা তার বক্তব্যে নিজের গুমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, তিনি ৯৬ দিন গুম ছিলেন। তিনি একজন সাধারণ কারখানা শ্রমিক হলেও তাকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নেয় এবং জঙ্গি স্বীকার করাতে দিনের পর দিন গুম করে নির্যাতন চালায় র্যাব। তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান, তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং গুমের ঘটনায় জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী মত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে গুমকে ব্যবহার করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও সাধারণ নাগরিকদের তুলে নিয়ে দীর্ঘদিন নিখোঁজ রাখা, গোপন বন্দিশালায় আটকে নির্যাতন এবং পরে কারও কারও ফিরে আসার ঘটনা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছিল। গুমের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার ন্যায়বিচার পায়নি।
তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুমের বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংসদে পাস না হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যাওয়া সরকারের এ বিষয়ে উদাসীনতারই প্রকাশ বলে তারা মন্তব্য করেন। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও গুমের ঘটনা ঘটেছে—এমন অভিযোগ উদ্বেগজনক।


