logo
Advertisement

উত্তাল পদ্মায় খেয়া নৌকায় পারাপার, বাড়ছে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পাবনা
উত্তাল পদ্মায় খেয়া নৌকায় পারাপার, বাড়ছে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি
বর্ষার উত্তাল পদ্মায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার চলছে পাবনার নাজিরগঞ্জ ঘাটে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন না থাকলেও পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জে পদ্মা নদীতে চলছে যাত্রীবাহী খেয়া নৌকা। জীবনঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারের পাশাপাশি যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বর্ষার ভরা মৌসুমে উত্তাল পদ্মায় এভাবে যাত্রী পরিবহন করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement

নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ঘাটের মধ্যে প্রতিদিন শত শত যাত্রী খেয়া নৌকায় পদ্মা নদী পার হচ্ছেন। একই নদীপথে সরকারি ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল করলেও থামেনি খেয়া নৌকার বেপরোয়া চলাচল।

সরেজমিনে নাজিরগঞ্জ ঘাট এলাকায় দেখা যায়, পদ্মার তীব্র স্রোত ও ঢেউ উপেক্ষা করে যাত্রী নিয়ে একের পর এক নৌকা নদী পার হচ্ছে। কয়েকজন যাত্রী জানান, নৌকাভেদে তাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র বৈধ অনুমোদন বা ইজারা ছাড়াই এই ঘাট পরিচালনা করছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চলছে বলেও তাদের দাবি; যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষাকালে পদ্মা নদী ভয়ংকর রূপ নেয়। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকা চলাচল করলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া এসব নৌযানের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ধারণক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, নাজিরগঞ্জে অবৈধভাবে খেয়া পরিচালনা ও টোল আদায়ের বিষয়ে গত ২১ এপ্রিল পাবনা জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে অবৈধ এই খেয়াঘাট বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর জবাবে গত ১৪ মে জেলা প্রশাসন জানায়, তারা এ ধরনের কোনো অবৈধ খেয়াঘাট সম্পর্কে অবগত নয়। বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের দাবি, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাজিরগঞ্জে যাত্রী পারাপার বা টোল আদায়ের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এদিকে নাজিরগঞ্জ খেয়াঘাটসংক্রান্ত একটি রিট মামলায় গত ১৬ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এর পরও নাজিরগঞ্জ নদীবন্দরের সীমানার ভেতরে যাত্রী পারাপারের নামে টোল আদায় অব্যাহত রয়েছে।

ঘাটে টোল আদায়কারীদের কয়েকজন দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ডা. আবদুল সালামের নির্দেশনায় তারা ঘাট পরিচালনা করছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. আবদুল সালাম বলেন, ‘সাধারণ যাত্রীদের পারাপারের সুবিধার জন্য নৌকার মালিকেরা এই খেয়াঘাট চালাচ্ছেন। এটা আমি লাগাইনি। আমার কি কোনো এখতিয়ার আছে যে আমি সেখানে ঘাট লাগাব?

বিআইডব্লিউটিএর নাজিরগঞ্জ নৌবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা গাজী মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, কে বা কারা নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার করছে এবং অবৈধ টোল আদায় করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ টোল ও যাত্রী পারাপারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা পত্র দিয়েছি। জেলা প্রশাসক আমাদের জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো টোল বা যাত্রী পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকার দায়বদ্ধ। আমরা খুব শিগগিরই স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।

বিষয় :