ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের তল্লাশিচৌকি থেকে পালালেন চিহ্নিত মাদক কারবারি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় পুলিশের তল্লাশিচৌকি (চেকপোস্ট) থেকে পালিয়ে গেছেন চিহ্নিত মাদক কারবারি ১৫ মামলার আসামি জহিরুল ইসলাম। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তল্লাশিচৌকিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আখাউড়া উপজেলার আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর রেলক্রসিং থেকে প্রায় ৫০ গজ উত্তরে আখাউড়া বাইপাস-সিংগারবিলগামী পাকা সড়কে তল্লাশিচৌকিতে ঘটনাটি ঘটে।
থানা সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআই মো. আলী রেজা মামুন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. বিল্লাল হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তানভীর আহমেদ জানান, মাদকবিরোধী তল্লাশিচৌকিতে সন্দেহজনক একটি গাড়ি থামিয়ে চালককে গাড়ির পেছনের ডালা খুলতে বলা হয়। চালক গাড়ি থেকে নেমে ডালার কাছে এসে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পিছু নিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দৌড়েও তাকে আটক করা সক্ষম হয়নি। তার ফেলে যাওয়া ‘প্রোবক্স’ মডেলের টয়োটা প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা গাড়ির তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গাড়ির মালিক মো. জহিরুল ইসলাম একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তিনি বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের মো. জজ মিয়ার ছেলে। তার নামে বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি মাদক মামলা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জহিরুল ইসলামকে পলাতক দেখিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তল্লাশিচৌকি থেকে মাদক কারবারির এভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
‘মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই’ সংগঠনের সভাপতি মফিজুল আলম পুষ্প বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরে মাদক ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন অবস্থায় একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্যদের সামনে থেকে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এভাবে পালিয়ে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় পুলিশের ওই সদস্যদের কোনো গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, পুলিশের তল্লাশিকালে এক মাদক কারবারি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় পুলিশের কারও গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।


