ভোলায় নদীর পাড় ধসে বিজিবি সদস্যসহ ২ যুবক নিখোঁজ

ভোলায় মেঘনা নদীর পাড় ধসে বিজিবি সদস্যসহ দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনার ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীর উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হওয়ায় এখনো তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল মাছঘাট সংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুজন হলেন—ভোলা শহরের ভদ্রপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে ও বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৮) এবং শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. বাবুলের ছেলে মো. রাকিব (১৮)।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর জানান, সন্ধ্যার পর পাঁচ বন্ধু মেঘনা নদীর তীরে বালুভর্তি জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে পাঁচজনই নদীতে পড়ে যান। পরে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আমজাদ ও রাকিব তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন। তারা চিৎকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা কাউকে উদ্ধার করতে পারেননি।
নিখোঁজ বিজিবি সদস্য আমজাদের স্বজনরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন আমজাদ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল। বুধবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়ে তিনি এ দুর্ঘটনার শিকার হন। সকালে বরিশাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
তবে রাতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড অবহেলা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, রাত ১০টার পর কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যান। অন্যদিকে রাকিবের স্বজনরাও রাতে উদ্ধার কাজ শুরু না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন নদীর পাড়ে স্বজনদের আহাজারি চলছে।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, মেঘনা নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভোলায় নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় বরিশাল থেকে ডুবুরি এনে অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, নিখোঁজ দুই যুবককে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।


