logo
Advertisement

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, গুদামে কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, গুদামে কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পর্যাপ্ত সার না পেয়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে একটি গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনার সাড়ে চার ঘণ্টা পর ইউএনও পুলিশ পাহারায় গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে জেলার কচাকাটা থানার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলা বাজারের ডিলার পয়েন্ট ‘ভাই ভাই মেশিনারিজ’-এ সকাল ৮টা থেকে সাধারণ কৃষকদের মাঝে সার বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোরে সার বিক্রি শুরু করে সকাল ৮টার মধ্যেই তা শেষ করে ফেলা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে এসে সার না পেয়ে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রান্তিক কৃষকেরা। একপর্যায়ে তারা দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে গুদামে আটকে রাখেন এবং মাদারগঞ্জ-ভূরুঙ্গামারী সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষুব্ধ কৃষকদের হাত থেকে বাঁচাতে ওই কর্মকর্তাকে গুদামে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন পুলিশি নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে যান এবং আন্দোলনরত কৃষকদের শান্ত করেন। এরপর তিনি অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে তুলে নেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে মোট ৮০ বস্তা সার নির্ধারিত নিয়মেই বিতরণ করা হয়েছে। সার দেওয়া শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত কয়েক শত কৃষক এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন।

কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার জানান, সার না পেয়ে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, নিয়মানুযায়ী সার বিতরণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় কৃষকের সমাগম অনেক বেশি হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কৃষকদের নতুন করে সার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি বরাদ্দের চাহিদা ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।