সেতু ভেঙে ভোগান্তি চরমে, ডিঙি নৌকাই ভরসা শিক্ষার্থীদের

বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে তালুকদার পাড়া ও বড়াইতলী এলাকার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। একই সঙ্গে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া। ফলে দুর্ভোগ নিরসনে অতি দ্রুত নতুন করে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়াইতলী এলাকার সংযোগ রক্ষায় বগীরদোনা খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সেতুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি সেটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় মৌরভী, পাওয়া পাড়া, তালুকদার পাড়া, বড়াইতলীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। কোনো বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ, জাকির হোসেন এবং শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম ও আমেনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। এখন সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে; কারণ যেকোনো সময় নৌকা ডুবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারছে না। প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার যেমন কমছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ভেঙে যাওয়া সেতুটি অপসারণসহ নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন একটি কাঠের পুল নির্মাণের প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।


