logo

বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অচেতন তিন পুলিশ সদস্য

বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অচেতন তিন পুলিশ সদস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দিনরাত অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড গরমে অচেতন হয়ে পড়েন সরাইল থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে সরাইল থানার ভেতরে এই ঘটনা ঘটে।

তারা হলেন বাবুল হোসেন (৪৭), মেহেরাব হোসেন (২৮) ও সাদ্দাম হোসেন (২৮)। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ভ্যাপসা গরমে তারা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না থানায়। সে সময় তীব্র গরমে তিনজন সদস্য অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সময় সহকর্মীরা তাদের অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছে।

এদিকে অজ্ঞান হওয়া পুলিশ সদস্য বাবুল জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে প্রচণ্ড গরম লাগছিল। কখন যে অচেতন হয়ে পড়েছি বলতেই পারিনি। পরে সহকর্মীরা মাথায় পানি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছুটা সুস্থ অনুভব হওয়ার পর চলে আসি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরাইলের নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে সদরসহ সাতটি ইউনিয়ন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন। বাকি অংশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন। এখানে বিউবোর গ্রাহক সংখ্যা ৫১ হাজার। এ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক প্রতিদিন ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, গরমে তিনজন সদস্য অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার বিষটি সত্য। লোডশেডিংয়ের কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। আর যে তাপদাহ চলছে এই গরমে যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, তিনজন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ আছেন। এই থানায় পাঁচজন মহিলা সদস্যসহ আমরা৬৮ জন পুলিশ কর্মরত আছি। সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সরাইল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহমেদ বলেন, আমাদের এখানে গ্রাহক রয়েছে ৫১ হাজার। বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।