logo

বগুড়ায় তিন দিনে ৩ খুন, জনমনে আতঙ্ক

বগুড়ায় তিন দিনে ৩ খুন, জনমনে আতঙ্ক

বগুড়ায় গত তিন দিনে পৃথক স্থানে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত এসব হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের নিশিন্দারা ট্যাংকের সাকো এলাকায় একটি গাড়ি সার্ভিসিং গ্যারেজের ঘর থেকে আলিফ হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উত্তর কাটনাপাড়ার বাসিন্দা রিপন হোসেনের ছেলে। জানা গেছে, গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন নিয়ে তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এর পরদিন, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের মাটিডালী বিমানমোড় এলাকায় ফাহিম হোসেন (১৯) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে। তিনি সদরের নওদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে পথরোধ করে বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একই হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে ঘাসের জমি থেকে সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে এক ট্রাক মালিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি জামাল উদ্দিন ওরফে জামুর ছেলে। গলা ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহর ও উপজেলায় ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর তিনটি হত্যাকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে না পারা এবং গ্রেপ্তারের পরে তাদের দ্রুত বিচার আইনে বিচার না করার কারণে জেলায় অপরাধ বাড়ছে।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, তিনটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।