logo

মাইকে ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রামে র‌্যাবের ওপর হামলা চালানো হয়

মাইকে ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রামে র‌্যাবের ওপর হামলা চালানো হয়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চলাকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুর্বৃত্ত র‌্যাবের ওপর হামলা চালিয়েছে। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে র‌্যাব-৭-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ সময় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামের এক র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হন। 

নিহত আবদুল মোতালেব র‌্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার বিকেলে র‌্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল মেজর জালিস মাহমুদ খানের নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

দুষ্কৃতকারীদের অতর্কিত হামলায় র‌্যাবের চার সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আহত র‌্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়। এরপর চট্টগ্রাম সিএমএইচের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিন র‌্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেখানকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সাদা রঙের মাইক্রোবাসে কালো জ্যাকেট পরা র‌্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযানে যায়। স্থানীয়দের হামলায় মাইক্রোবাস ফিরে আসার সময় ভাঙচুর করতে দেখা যায়। হামলার সময় ওই এলাকায় মাইকে ঘোষণা দেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। 

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এআরএম মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৪৩ র‌্যাব সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে গিয়েছিলেন। এলাকাটিতে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এলাকাটিতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চলে আসছে। এর আগেও একাধিকবার জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ অভিযান ও পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগ হামলার মুখে পড়ে।