শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, দাবি নেতাকর্মীদের

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরগুনার আমতলী উপজেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কার্যালয়ে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পতাকা উত্তোলন করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে তারা দলীয় কার্যালয়ে পতাকা টানিয়েছেন।
শনিবার রাত ৯টার দিকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মতিন খানের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা ব্যানার টানিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ভিডিওতে ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য টিপু ও মশিউর রহমান লিটনকেও দেখা যায়। পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মতিন খান বলেন, ভার্চুয়াল বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের ভাঙা, দখলকৃত বা পোড়া অবস্থায় থাকা দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার টানিয়ে সাংগঠনিক অবস্থান জানান দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। আমরা হামলা-মামলার ভয় করি না। নেত্রীর নির্দেশ পেলে আবারও রাজপথে নামব।’
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, যেহেতু দলটির কার্যক্রম সরকারিভাবে নিষিদ্ধ, তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনার কথা জানান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা বলেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি পুলিশ জেনেছে এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তালাবদ্ধ করা হয়। এরপর থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের অনেকেই পুনরায় সক্রিয় হতে শুরু করেছেন।