দুপুরে জরিমানা, সন্ধ্যায় সেই দোকানের দই দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের ইফতার

মিষ্টির কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে কারখানার মালিককে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। দুপুরে জরিমানা করার পর বিকেলে ওই দোকান থেকেই দই নিয়ে ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরিবেশন করেছে উপজেলা প্রশাসন। এমনই ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের মধুখালীতে।
জানা গেছে, উপজেলার বাগাট রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় সোমবার (৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান। অভিযানকালে কারখানায় তেলে ময়লা, মিষ্টির সিরা পুরানোসহ অপরিষ্কার থাকায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে গতকাল ছিল উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিল। বিকেলে রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকেই দই নেওয়া হয় ইফতার মাহফিলের জন্য। ইফতার মাহফিলে নানা খাবারের সঙ্গে ওই দোকানের দইও পরিবেশন করা হয়।
দুপুরে দোকানটিকে জরিমানা করে বিকেলে ওই দোকানের দই ইফতার মাহফিলে পরিবেশন করা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বাগাট রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী সুকুমার ঘোষ বলেন, কারখানায় নতুন ব্যারেলে তেল ছিল, যা খোলা হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানায় গিয়ে নতুন তেলের ব্যারেলের মুখ খোলে। ওই সময় তারা বলেন, তেলে ময়লা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চিনির তৈরি সিরা অনেকদিনের পুরোনো বলে অভিযোগ আনা হয়। যদিও আমি ওই সময় কারখানায় ছিলাম না। অন্যদের কাছ থেকে শুনেছি।
তিনি বলেন, আমার বেশ কয়েকটি শোরুম রয়েছে, প্রতিদিন দই-মিষ্টির চাহিদা রয়েছে। সেখানে কারখানায় মিষ্টি বা অন্য সামগ্রী পুরোনো হওয়ার সুযোগ নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেরও অভিযোগ এনে জরিমানা করা হয়। আরও বেশ কয়েকটি মিষ্টির কারখানা রয়েছে, সেখানে কিন্তু অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। আসলে কী কারণে এই জরিমানা বুঝতে পারলাম না।
সুকুমার ঘোষ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিল ছিল, সেখানে আমাদের দোকান থেকেই দই নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের অফিস থেকে সহকারীরা এসে ১৩৫টি কাপ দই নিয়ে যান। দইয়ের দামও দিয়ে গেছেন।
ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যাক্তি বলেন, প্রথমে বিষয়টি জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি। দুপুরে যে দোকানে অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য জরিমানা করা হল, বিকেলে সেই দোকান থেকেই দই এনে ইফতার মাহফিলে পরিবেশন করা ঠিক হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এটা আমরা আশা করিনি। কী কারনে জরিমানা করা হল, আবার কী কারণে বিকেলে সেখান থেকে দই আনা হল- এটা আমাদের বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান বলেন, বাগাট রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে কারখানায় রাখা তেলে ময়লা পাওয়া যায়। চিনি দিয়ে তৈরি সিরাও কয়েক দিন আগের ছিল। এ ছাড়া অপরিষ্কার পরিবেশ থাকার কারণে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
দুপুরে জরিমানা করে বিকেলে ওই দোকানের দই ইফতার মাহফিলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা। অনিয়ম পেয়েছি, এ কারণে জরিমানা করা হয়েছে। ইফতারের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের বিষয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান বলেন, বাগাট রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিককে জরিমানা করা হয়।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য দুপুরে জরিমানা করে বিকেলে ওই দোকানের দই ইফতার মাহফিলে পরিবেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা দোকানের সব কিছুই তো খারাপ না, যেগুলো খারাপ সেগুলোর কারণে জরিমানা করা হয়েছে। সবকিছু খারাপ হলে দোকান তো সিলগালা করে দেওয়া হত, তা তো করা হয়নি, শুধুমাত্র জরিমানা করা হয়েছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ‘দুপুরে জরিমানা করে বিকেলে ওই দোকান থেকেই দই নেওয়া হয়েছে ইফতার মাহফিলের জন্য- বিষয়টি কনফ্লিক্টিং (সাংঘর্ষিক)। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’