Advertisement

কিনব্রিজ এলাকা থেকে সরানো হচ্ছে ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিলেট
কিনব্রিজ এলাকা থেকে সরানো হচ্ছে ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ
কিনব্রিজ এলাকায় ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সিলেট নগরের ঐতিহাসিক কিনব্রিজসংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ে নির্মিত ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। সাইনেজটি সরিয়ে অন্য কোনো দৃষ্টিনন্দন জায়গায় স্থাপনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই নতুন স্থানে এটি স্থাপন করা হবে।

প্রায় ৯০ বছর আগে সুরমা নদীর ওপর নির্মিত কিনব্রিজকে সিলেটের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রতি ব্রিজের উত্তর পাশের নদীতীরে ‘আই লাভ সিলেট’ লেখা সাইনেজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিসিক। নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও সাইনেজটির স্থাপন পদ্ধতি ও স্থান নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে সিলেটবাসী।

নদীর তীরে দাঁড়িয়ে মুক্তভাবে কিনব্রিজ দেখার যে সুযোগ ছিল, তা এই সাইনেজের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্রিজের একাংশ আড়ালে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে স্থপতি ও লেখক শাকুর মজিদ ফেসবুকে লেখেন, নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সকল নগরকর্তার (মেয়র/প্রশাসক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর প্রধান প্রকৌশলীর) ভালো চোখের ডাক্তার দেখানো দরকার।

জনপ্রিয় সিলেটি ভাষার অভিনেতা বেলাল আহমদ মুরাদ লেখেন, পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজ সুন্দরও হয় না, স্থায়ীও হয় না। অন্যান্য দেশে দর্শনার্থীদের জন্য নির্মিত আকর্ষণীয় স্থাপনাগুলো শত বছর পরেও দৃষ্টিনন্দন থাকে। কারণ, তারা ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করে। কিন্তু আমরা অনেক সময় কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই যা খুশি তা-ই করে ফেলি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে স্থাপনাটি দেখে মানুষের মুগ্ধ হওয়ার কথা ছিল, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা, সঠিক নকশা ও দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে সেটিই গত দুই দিন ধরে তীব্র সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কবি ও লেখক তাসলিমা খানম বীথি লেখেন, ঐতিহাসিক কিনব্রিজ আড়াল করে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপন। সিলেট সিটি করপোরেশনের কি সিলেটের সৌন্দর্য নিয়ে ভাবা উচিত না? এমন ভালোবাসার সাইনবোর্ড আমরা চাই না।

সাংবাদিক জয়ন্ত কুমার দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, সিলেটে শতবর্ষী ঐতিহ্য ঢেকে এই নেমপ্লেট নির্মাণ কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? আর সিলেটের ব্র্যান্ডিংয়ে একটা কোম্পানির স্পন্সর থাকবে কেন? সিটি করপোরেশন কি গরিব হয়ে গেল নাকি? আরও অনেক খালি জায়গা আছে, সেখানে এটি স্থানান্তর করা যেতে পারে।

সাইনেজটি সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সিদ্ধান্তের খবরটি আসার পর সাংবাদিক জয়ন্ত দাস তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, অবশেষে স্থানান্তর হচ্ছে নির্মাণটি। এজন্য সিটির প্রশাসককে ধন্যবাদ।