লক্ষ্মীপুরে স্বর্ণের দোকানে চুরি, চাঁদপুরে পাওয়া গেল নৈশপ্রহরীর মরদেহ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি স্বর্ণের দোকানের সার্টারের তালা ভেঙে সিন্দুক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এক দিন পর ঘটনাস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশপ্রহরী মো. ফরিদের মরদেহ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১ মে) রাতের কোনো এক সময় রামগঞ্জ পৌর শহরের পাটবাজারে নিউ আপন শিল্পালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২ মে) বিকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে ওই নৈশপ্রহরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ফরিদ রামগঞ্জ পৌরসভার মিজি বাড়ির মো. শাহাজাহানের ছেলে। তিনি রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা জানান, সাদা মাইক্রোবাস নিয়ে একদল লোক এসে স্বর্ণের দোকানে চুরি করে। ঘটনা দেখে ফেলায় ফরিদকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ হাজীগঞ্জ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রূপন শীল বলেন, আমি ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে কোনোরকম ডাল-ভাত খাই। আমার অঢেল টাকা নেই। ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। চোরের দল আমার স্বর্ণা ও রুপার অলংকারসহ সিন্দুকটি নিয়ে গেছে। আমাকে শেষ করে দিয়ে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা চাই। লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও হত্যার সঙ্গে জড়তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইমারত হোসেন বলেন, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে ফরিদের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তার বাড়ি রামগঞ্জে। নিহতের পরিবারকে হাজীগঞ্জ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চুরির ঘটনায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কত টাকার মালামাল চুরি হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, হাজীগঞ্জ রাস্তার পাশ থেকে ফরিদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে শুনেছি। সেখানে তার ময়নাতদন্ত হবে। সেখানে মামলা হবে। আমরা বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।