নদীগর্ভে শত শত বসতভিটা, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি

কুড়িগ্রাম জেলার বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে চারটি প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদী—ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার। বর্তমানে এসব নদীর অববাহিকায় অন্তত ৭০টি স্থানে তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসতিগুলো।
তথ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোতে শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনো নদীপাড়ের অসংখ্য পরিবার চরম হুমকির মুখে রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করা এসব দুর্গত মানুষের একটাই দাবি—স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও টেকসই নদীশাসন।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীগর্ভে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে বসতভিটার ভিটেমাটি। কেউ ঘরের টিন, দরজা-জানালা খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার যানবাহনে আসবাবপত্র চাপিয়ে নতুন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। আবার অনেকেই অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে দেখছেন চোখের সামনে নিজের জীবনের শেষ সম্বলটুকু নদীর পেটে তলিয়ে যেতে। ভাঙনের তীব্র আতঙ্কে দিন-রাত নির্ঘুম কাটছে নদীপাড়ের মানুষদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের প্রধান চার নদীর দুই তীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার হলেও স্থায়ীভাবে প্রতিরক্ষা বাঁধ রয়েছে মাত্র ৭০ কিলোমিটার এলাকায়। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়; হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হন।
ভাঙনকবলিত সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, প্রতিবছর নদী একটু একটু করে আমাদের সব কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের গ্রামটা প্রায় ধ্বংসের পথে, এখন শেষ বসতভিটাও বিলীন হতে চলেছে। আমরা আর সাময়িক ত্রাণ চাই না, স্থায়ী সমাধান হিসেবে টেকসই বাঁধ চাই।
একইভাবে ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চরের বাসিন্দা কাদের বলেন, ধরলা নদীর ভাঙনে আমাদের গ্রামটি ভেঙে প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। যেটুকু অবশিষ্ট আছে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে এই গ্রামের অস্তিত্বই মুছে যাবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, আমরা ইতোমধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করেছি। যেসব এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি, সেখানে জিওব্যাগ ফেলে তাৎক্ষণিক সুরক্ষার কাজ চালানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



