Advertisement

বক্তব্যে বললেন ‘জয় বাংলা’, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নওগাঁ
বক্তব্যে বললেন ‘জয় বাংলা’, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উন্মুক্ত বাজেট সভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি ‘ভুলবশত’ হয়েছে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে উপস্থিত মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন নিজেকে রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

অভিযোগ উঠেছে, আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা প্রবীণ ওই মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং এর জন্য তাকে জনসমক্ষে মাইকে পুনরায় ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন তারা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। পরিস্থিতির কারণে এখন এই স্লোগান দেওয়া হয়তো অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মুখ ফসকে বলে ফেলার পর সঙ্গে সঙ্গেই ভুল স্বীকার করেছিলাম। তা সত্ত্বেও আমাকে সবার সামনে লাঞ্ছিত ও মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদল কর্মী দাবি করে বলেন, ‘স্লোগান দেওয়ার পর উপস্থিত সবাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। শুধু আমি একা নই, অনেকেই প্রতিবাদ করেছে। পরিস্থিতির চাপে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।’

তবে আলাউদ্দিন তার দলীয় পদের কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

ঘটনার বিষয়ে হাজিনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন, অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের বর্তমানে দলে কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। অতীতেও তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। মূলত রাজনৈতিক সুবিধা নিতেই তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করছেন।

নওগাঁ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মূল স্লোগান ছিল এটি, যদিও পরবর্তী সময়ে এর অপব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’