logo

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল/মশারি ছাড়াই একই ওয়ার্ডে সাধারণ ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা

মনজু শেখ
রাজবাড়ী
মশারি ছাড়াই একই ওয়ার্ডে সাধারণ ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের চিত্র। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়নি কোনো পৃথক ওয়ার্ড। সাধারণ রোগীদের সাথেই গাদাগাদি করে একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের। শুধু তাই নয়, অনেক ডেঙ্গু রোগীর শয্যায় মশারি নেই। এতে ভর্তি থাকা অন্যান্য সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে দুজন, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বছরের প্রথম নয় মাসে জেলা সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৬৫ জন।

সরেজমিন রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে দেখা যায়, সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু রোগীর শয্যায় মশারি দেখা যায়নি। ডেঙ্গু রোগীরা জানান, হাসপাতাল থেকে তাদের মশারি দেওয়া হয়নি। আবার মশারি টাঙানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ তাদের।

সদর উপজেলার কল্যাণপুর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তাজেল বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষা করে পজিটিভ এসেছে। হাসপাতাল থেকে মশারি দেওয়া হয়নি। নিজেদের মশারি টাঙানোরও ব্যবস্থা নেই। তার সঙ্গে স্ত্রীও রয়েছেন। তাকে নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। এখানে অনেক সাধারণ রোগীও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বহরপুর থেকে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগী সালমান বলেন, এখানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই তাদের রাখা হয়েছে। মশারি দেওয়া হয়নি, আবার টাঙানোর জায়গাও নেই। ওষুধ কিছু হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

কালুখালী থেকে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে আসা সায়েদ বলেন, সাধারণ রোগী ও ডেঙ্গু রোগী একই জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ নিয়ে তারা টেনশনে আছেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করা উচিত।

ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র নার্স স্বপ্না বলেন, হাসপাতাল থেকে মশারি দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা তিনি জানেন না। তিনি ছুটিতে ছিলেন, আজই কাজে যোগ দিয়েছেন।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বেলায়েত বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। তবে একটি কর্নার করা হয়েছে, সেখানে তাদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাসেবায় কোনো সমস্যা নেই।

তিনি আরও বলেন, সব রোগীকেই মশারি দেওয়া হয়েছে এবং মশারি ব্যবহারের জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। হয়তো তারা ব্যবহার করছে না।