logo

জ্বালানি সংকটে টান পড়েছে আয়ে

জ্বালানি সংকটে টান পড়েছে আয়ে

‘সারা দিন পাম্পে বসে থাকি, তেল পাই না। তেল না পেলে কীভাবে গাড়ি চালাব। আগের চেয়ে আয় কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে দিনমজুরের কাজ করতে হবে।’

কথাগুলো কুড়িগ্রামের একটি চরাঞ্চলের বাসিন্দা মাঈদুল হোসেনের। তিনি মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করেন। এশিয়া পোস্টের কাছে বলছিলেন, দেশে জ্বালানি নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি কীভাবে রাইড শেয়ারিং পেশায় প্রভাব ফেলেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের জালালের মোড় ও শুলকুর বাজার থেকে উলিপুর উপজেলার কালিগঞ্জ পর্যন্ত মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করা হয়। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক হওয়ায় অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে এই পথে মোটরসাইকেলে চলাচলে নির্ভরশীল স্থানীয়রা।

সকাল হলেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী সেবায় নিয়োজিত থাকেন মোটরসাইকেল চালকরা। মোল্লারহাট, কালিগঞ্জ, ওয়াপদা বাজার, নয়ারহাট চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চলাচল করে মোটরসাইকেল। দূরত্ব অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। একজন চালক দৈনিক গড়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় করেন।

চালকদের অভিযোগ, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষা করেও মিলছে না জ্বালানি। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন।

রাউড শেয়ার করা মো. হানিফ বলেন, মোটরসাইকেলটাই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এখন তেল নেই, আয় নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। অনেকে তেল না পাওয়ার কারণে গাড়ি ঘরে তুলে রেখেছেন।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নটি নদীর কারণে বিছিন্ন। এ অঞ্চলে রাস্তা ভালো না থাকবার কারণে মোটরসাইকেলে করে যাতায়াত করে মানুষজন। জ্বালানি সংকটের কারণে শত শত মোটরসাইকেলচালকের জীবিকা থমকে গেছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ লিটার। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ লিটারের মতো।