নাফ নদীতে বিজিবির টহল জোরদার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোট নিশ্চিত করতে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-২)। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন থাকবে ৭ প্লাটুন বিজিবি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টেকনাফ পৌরসভাস্থ বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিবি-২ টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, বিজিবি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে। যাতে সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পায়। ভোটাররা ভয় ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।
বিজিবির এ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT), কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকবে।
নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে লে. কর্নেল হানিফুর রহমান বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে ড্রোন, বডি অন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজার, রাডার, আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি-২ এর অধিনায়ক বলেন, এবারের নির্বাচনে বিজিবির ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চাইলে বা কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা, জাল ভোট কিংবা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সীমান্তবর্তী মানুষের ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে নাফ নদীতে নৌ-টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া নাফ নদীকে ব্যবহার করে যাতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, গোলাগুলি এবং ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বিজিবি আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সবশেষ নির্বাচনকালীন কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা তৎপর থাকবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।