Advertisement

দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই জেলায় সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বগুড়া ও সিলেট
দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই জেলায় সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ
দুর্ঘটনার শিকার তিন বাস। ছবি কোলাজ: এশিয়া পোস্ট

বগুড়া ও সিলেটে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বগুড়ায় সাতজন ও সিলেটে নয়জন মারা গেছেন। বগুড়ায় আহত আরও ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিলেটে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন। দুই জেলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বগুড়ার সদর উপজেলার বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায়।

এই দুর্ঘটনার দুই ঘণ্টার মাথায় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় যাত্রীবাহী দুই বাসের সংঘর্ষ হয়।

বগুড়ায় দুর্ঘটনার পর বিক্ষোভ

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় স্পিডব্রেকার নির্মাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাৎক্ষণিক স্পিডব্রেকার নির্মাণ কাজ শুরু করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলের সামনে এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়। প্রতিদিন বিদ্যালয়ের সামনে দিনমজুর শ্রমিকের হাট বসে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে এত দিন কোনো স্পিডব্রেকার ছিল না। বিদ্যালয় ও শ্রমিকের হাট থাকার বিষয়ে চালকদের সতর্ক করতে প্রয়োজনীয় সড়কচিহ্নও ছিল না।

পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় সড়কের পাশে অবস্থানরত দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর বাসটি উঠে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একজনের মরদেহ স্বজনরা নিয়ে গেছেন। অন্য তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে রাখা আছে।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম, বেলাল ও জয়পুরহাটের তাজমুল।

বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, নিহত সাতজনের প্রত্যেক পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সিলেটমুখী বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী বাসের সংঘর্ষ

দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। সেখানে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ইউনিক পরিবহনের সাতজন যাত্রী প্রাণ হারান। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ইউনিক পরিবহনের সাতজন যাত্রী প্রাণ হারান। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটের উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীয়ম, ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের তিন বছর বয়সি শিশুকন্যা খোজাইফা, লক্ষ্মীপুরের কুলিয়ারচর উপজেলার সাইফুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিল্পি পেহেলী ভৈরবী।

ওসমানী নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিহতরা ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০-২৫ জন।

তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।