logo
Advertisement

নির্দেশনা না মেনে রাতভর চলছে বলুহ মেলা, বসে মাদক-জুয়ার আড্ডা

ইমরান হোসেন পিংকু
যশোর
নির্দেশনা না মেনে রাতভর চলছে বলুহ মেলা, বসে মাদক-জুয়ার আড্ডা
যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলার রাতের চিত্র। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাত যত গভীর হয়, ততই জমজমাট হয়ে ওঠে যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহী বলুহ মেলা। অথচ জেলা প্রশাসনের অনুমতিতে মেলা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলার কথা। অনুমতিপত্রে জুয়া, লাকি কুপন, র‌্যাফেল ড্রসহ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধ রাখার শর্তও রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলার মাঠের পাশেই চলে মাদক সেবন, অনলাইন জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে কপোতাক্ষ নদের পাড় ও নদীসংলগ্ন বাঁশবাগানকে ঘিরে এসব কর্মকাণ্ড চলছে।

বলুহ মেলার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। প্রতিবছর এ মেলাকে ঘিরে চৌগাছাসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এবারও ১৫ দিনের জন্য মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মেলা শুরুর পর থেকেই অনুমতিপত্রের শর্ত মানা হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, মেলা প্রাঙ্গণে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম, বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় রাইড ও বিভিন্ন স্টল বসানো এবং স্কুলের ছাদে মাইকের হর্ন স্থাপনের অভিযোগও উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

হাজরাখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ, আয়ান ও রাগীব বলে, স্কুলের ছাদে মাইক লাগিয়ে সারাক্ষণ শব্দ করা হচ্ছে। মাইক বাজানোর কারণে ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মেলা বন্ধ হচ্ছে না। বরং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলার ভিড় ও আলোকসজ্জা আরও বাড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও রাতভর মেলার আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন স্টলে বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। একইসঙ্গে মেলার মাঠের পাশেই চলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

রাত হলেই মেলায় বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। ছবি: এশিয়া পোস্ট
রাত হলেই মেলায় বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মেলায় ঘুরতে আসা লায়লা খানম বলেন, বাচ্চাদের জোরাজুরিতে বলুহ মেলায় ঘুরতে এসেছি। বাচ্চাকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য নদীর পাড়ে তৈরি বাথরুমে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি তরুণ-তরুণীরা অনৈতিক কাজে জড়িত। এমন দৃশ্য দেখে খুবই বিব্রত হয়েছি। তার স্বামী ইউনুস মিয়া বলেন, শুধু অনৈতিক কাজ নয়, অল্প বয়সের ছেলেদের নদীর পাড়ে বসে অনলাইন জুয়া খেলতেও দেখা গেছে।

ওরশ ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, জানেন তো ভাই, রাতেই মেলা জমে বেশি। আর এক জায়গায় অনেক মানুষ থাকলে কিছু দুষ্টু ছেলে-মেয়ে তার মধ্যে থাকে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি সব বন্ধ করার জন্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলার নামে নির্ধারিত সময়ের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা, জুয়া-মাদক কিংবা কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এসব বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, জুয়া, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আমরা চেষ্টা করব এগুলো বন্ধ করতে।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, মেলায় নির্ধারিত সময়ের পর কার্যক্রম চলা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি আজই খোঁজ নিয়ে মেলা কমিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। মেলার অনুমতিপত্রে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। জুয়া, মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ কোনো ধরনের অপকর্মের সুযোগ দেওয়া হবে না। এসব বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মেলা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।