logo

পঞ্চগড়ে মামী-ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

পঞ্চগড়ে মামী-ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মামী (৪০) ও ভাগনিকে (১৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দেবীগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়।

মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন—উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা এলাকার মো. পারভেজ, মো. রাসেল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে রাতে উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে মামী ও ভাগনি বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে তালা লাগানো থাকায় তারা অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য একটি ভ্যানের সন্ধান করছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় এক ব্যক্তি ভ্যান এনে দেওয়ার কথা বলে চলে যান। পরে তিনি একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে কয়েকজন যুবককে নিয়ে ফিরে আসেন। এরপর ভাগনিকে জোরপূর্বক একটি ঘরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। একই সময়ে মামীকে জোরপূর্বক ব্যাটারিচালিত ভ্যানে তুলে করতোয়া নদীর পাড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

পরে ভুক্তভোগীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ভুক্তভোগীর (ভাগনি) বাবা বলেন, আমার মেয়ে ও তার মামীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আমি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই। যারা এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।