logo

কৃষক ছাড়া কৃষকের অনুষ্ঠান, এমপি বললেন ‘দুঃখজনক’

কৃষক ছাড়া কৃষকের অনুষ্ঠান, এমপি বললেন ‘দুঃখজনক’
শেরপুরে সরকারিভাবে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

শেরপুরে সরকারিভাবে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। তবে কৃষকদের জন্য আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকৃত কৃষকদের উপস্থিতি ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানে গুদামের শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও কৃষকদের দেখা মেলেনি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকৃত কৃষকদের অনুপস্থিতি হতাশাজনক। তাদের ভাষ্য, মাঠপর্যায়ের কৃষকদের বদলে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও গুদাম শ্রমিকদের উপস্থিতি আয়োজনটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। কৃষকেরা যাতে সহজে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

sherpur1
sherpur1

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে শেরপুর জেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ২২৯ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৯ টাকা কেজি দরে ২৫ হাজার ৬৯৬ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে।

কৃষকদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, আমি গাড়িতে আছি, পরে কথা বলব।

সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি তিনিও খেয়াল করেছেন। যারা উপকারভোগী, তাদের উপস্থিতি থাকা দরকার ছিল।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি ভেবেছিলাম অনুষ্ঠানে কৃষক আছে। পরে শুনলাম কৃষক ছিল না। বিষয়টি আমি জানতাম না। আমি এখনই (ডিসি ফুড) জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, কৃষকের অনুষ্ঠানে কৃষক থাকা দরকার ছিল। শ্রমিকদেরই আমি কৃষক ভেবেছিলাম। পরে জেনেছি প্রকৃত কৃষক ছিলেন না, এটি দুঃখজনক।