অটোরিকশার চার্জার চুরি করে পালাচ্ছিলেন জামাই, আটকাতে গিয়ে প্রাণ গেল শ্বশুরের

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় অটোরিকশার চার্জার চুরি করে পালানোর সময় জামাইকে আটকাতে গিয়ে সিদ্দিকুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার জামাই রাসেল স্থানীয়দের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের সাকরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিদ্দিকুর রহমান ওই গ্রামের রুপচানের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা চালিয়ে রাতে বাড়ি ফেরেন সিদ্দিকুর রহমান। পরে অটোরিকশাটি বাড়িতে রেখে চার্জে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১টার দিকে অটোরিকশা রাখার স্থান থেকে শব্দ শুনে তিনি ও তার ছেলে শফিকুর রহমান ঘর থেকে বের হন।
এ সময় তারা অন্ধকারে একজনকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করতে দেখেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে ওই ব্যক্তিকে আটক করলে দেখতে পান তার মেয়ে আশা আক্তারের স্বামী রাসেল অটোরিকশার চার্জার চুরি করে পালানোর চেষ্টা করছেন।
রাসেলকে আটকানোর সময় তার ও তার শ্বশুর সিদ্দিকুর রহমানের ধস্তাধস্তি হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিদ্দিকুর আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সিদ্দিকুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় রাসেলকে মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
তবে কীভাবে এবং কোন আঘাতে সিদ্দিকুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিবেশী বাবুল মিয়া বলেন, রাতে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি স্থানীয়রা রাসেলকে ধরে রেখেছে। ধস্তাধস্তির মধ্যে সিদ্দিকুর আহত হয়। রাসেলকে আটকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আমার হাতেও আঘাত লাগে।
নিহতের ভাই ইদ্রিস আলী বলেন, সিদ্দিকুরের ছেলে চিৎকার করে চোর ধরার কথা জানালে আমরাও ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। জামাই অটোরিকশার চার্জার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। পরে ধস্তাধস্তির সময় সিদ্দিকুর আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যান। এ ঘটনায় আরও একজন জড়িত আছে বলে আমার মনে হয়।
নিহতের মেয়ে আশা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। বাবার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি দাবি করছি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিদ্দিকুর রহমানের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।