logo

ছয় লেন প্রকল্প/যশোরে ক্ষতিপূরণ পেলেও ঝিনাইদহে বঞ্চিত দেড় হাজার ব্যবসায়ী

যশোরে ক্ষতিপূরণ পেলেও ঝিনাইদহে বঞ্চিত দেড় হাজার ব্যবসায়ী
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্পে অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে কালীগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন প্রতিনিধি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কালীগঞ্জ শহরের মোটর মালিক সমিতির কনফারেন্স রুমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ী সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়জিদ হোসেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলেও উচ্ছেদের মুখে পড়া ব্যবসায়ীদের এখন পর্যন্ত কার্যকর ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ীরা জানান, ‘উই কেয়ার ফেজ-১ (এন-৭)’ প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ অংশে জমি, দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ কেস নম্বর-০১/২২-২৩-এর আওতায় অধিকাংশ ভূমিমালিক ইতোমধ্যে জমির ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছেন। তবে একই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত বছরের ১৭ আগস্ট, ২৩ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ২ মার্চ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। গত বছরের ৩ নভেম্বর ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ বিষয়ে শুনানিও হয়। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই শুনানি মুলতবি করা হয়। এরপরও তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারার ৩(ক) উপধারায় অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-রোজগার ও স্থানান্তর ব্যয়সহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

তাদের দাবি, একই ‘উই কেয়ার ফেজ-১’ প্রকল্পে যশোর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ফলে ঝিনাইদহ অংশের ব্যবসায়ীরাও একই আইনের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।

ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, এই প্রকল্পের কারণে কালীগঞ্জে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্যবসায়ী এবং ২ হাজার ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে পরিবারসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত এবং ক্ষতিপূরণের নোটিশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঝিনাইদহ অংশে অধিগ্রহণ করা মৌজা, দাগ ও খতিয়ানের তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশেরও দাবি করেন তাঁরা।

এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত ভূমিমালিকদের স্থাপনা অপসারণ বন্ধ রাখা এবং গত ১৬ জুলাই ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে উচ্চ আদালতের ২০ আগস্টের আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন ও যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে জোরদার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, একই প্রকল্পের যশোর অংশে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ঝিনাইদহ অংশের ব্যবসায়ীরা কেন তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন? এই প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের অর্থ বরাদ্দ হয়ে থাকলে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।