logo

ফেসবুকে অবমাননাকর বক্তব্যের ৮ দিন পর গাইবান্ধায় শহীদ মিনার ভাঙচুর

ফেসবুকে অবমাননাকর বক্তব্যের ৮ দিন পর গাইবান্ধায় শহীদ মিনার ভাঙচুর
শহীদ মিনারের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে শহীদ মিনার ভাঙার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক মো. আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার মাত্র ৮ দিন আগে তিনি শহীদ মিনারের ওপর উঠে ফেসবুক লাইভে অবমাননাকর বক্তব্য দেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরের দিকে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভেতরে অবস্থিত শহীদ মিনারটির ইটের অবকাঠামো ভাঙেন ওই শিক্ষক। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।

এ ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীব গত ১৮ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে শহীদ মিনারের ওপর উঠে অবমাননাকর বক্তব্য ও লাথি মারেন, যার ভিডিও প্রমাণ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রয়েছে। ঘটনায় দাপ্তরিক পরামর্শে একটি অভিযোগপত্র পাঠানোর পাশাপাশি গত ১৯ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, রোববার থানা থেকে তদন্ত কর্মকর্তা এসে সাক্ষাৎ করার পর, সোমবার সকালে তিনি আরও উগ্র আচরণ করেন এবং পরে দুপুরের দিকে ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনারের মাঝের একটি পিলারের নিচের বেশ কিছু টাইলস ভেঙে ফেলেন।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক ও প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালককে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে সংবাদ পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীব। তিনি ৩১তম বিসিএসে (কৃষি) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।