বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগী, চিকিৎসায় হিমশিম

দেশের বিভিন্ন জেলায় ছোঁয়াচে হাম আক্রান্ত রোগী বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা। তাছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। নিয়ম অনুযায়ী—প্রতি পাঁচ বছর পরপর এই রোগ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন হলেও ২০২৪ সালে তা না হওয়ায় এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১২ দিনে (১৫ থেকে ২৭ মার্চ) হাম আক্রান্ত ১৩০ রোগীকে ভর্তি নেওয়া হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা) অরও ৩৭ শিশু ছোঁয়াচে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জন ছেলে ও ৬ মেয়ে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছেই। আমাদের চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণে প্রচুর হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকবল নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পুরাতন বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে, যাতে এই রোগ অন্যদের মধ্যে ছড়াতে না পারে।’
হাম রোগের প্রধান লক্ষণগুলো সম্পর্কে চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্ত শিশুর শুরুতে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে জল পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। জ্বরের কয়েক দিন পর মুখগহ্বরের ভেতরে ছোট সাদাটে দাগ দেখা দিতে পারে। এর পরপরই কান ও মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে শিশুরা প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারে অরুচি দেখা দেয়।
চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মা শরিফা বেগম বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ জ্বর। কিন্তু শরীরে লাল দানা উঠতে শুরু করলে ভয় পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসি। এখানে আসার পর দেখছি অনেক শিশু এই রোগে ভুগছে। রোগীর চাপে সেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
একই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অপর এক শিশুর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাচ্চার বয়স মাত্র আট মাস। জানতাম না এত ছোট শিশুদেরও এই রোগ হতে পারে। আশপাশে আরও অনেকের হচ্ছে শুনে খুব আতঙ্কে আছি।’
জেলা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান বলেন, ‘হাম রোগটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু অবহেলা করলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ৯ ও ১৫ মাসে ২টি ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দিতে হবে। যেসব শিশুর এই বয়সে এখনও টিকা দেওয়া হয়নি, তাদের দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ৯ মাসের কম বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং এই সময়ে শিশুদের বাসায় রাখতে হবে। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। রোগটিতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
জেলার সার্বিক অবস্থা নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘হাম রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতি ৫ বছর পরপর একটি ক্যাম্পেইন করা হয়। সবশেষ এই ক্যাম্পেন হয়েছিল ২০১৯ সালে। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরেরই এপ্রিল অথবা মে মাসেই এই ক্যাম্পেইন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই ভিজিট করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাম রোগীদের শনাক্ত করে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসছেন। এই রোগটি প্রতিরোধযোগ্য, কাজেই আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।’