logo
Advertisement

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে অসুস্থ শ্রমিকের মৃত্যু, কারণ নিয়ে বিতর্ক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে অসুস্থ শ্রমিকের মৃত্যু, কারণ নিয়ে বিতর্ক
সীতাকুণ্ড শিপইয়ার্ড। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়া মো. আলাউদ্দিন (৫১) নামের এক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

Advertisement

রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত আলাউদ্দিন ‘বারাকা শিপব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে’ ফিটারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) পরিদর্শক সোহেল পারভেজ ও সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডের মালিক মো. শামসুল আলম তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইয়ার্ড সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজে কাজ করার সময় আলাউদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে শ্রমিকের এই মৃত্যুর কারণ ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের সদস্য ফজলুল কবির মিন্টুর অভিযোগ, কাজ করার সময় ওপর থেকে পড়ে গিয়ে আলাউদ্দিনের মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত লাগে। মূলত আঘাতজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।

অন্যদিকে দুর্ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়ার্ড মালিক মো. শামসুল আলম জানান, তিনি আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে’ তার মৃত্যু হয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, সরকার চাইলে তদন্ত করে দেখতে পারে।

ডিআইএফই পরিদর্শক মো. সাহেদ পারভেজ তালুকদার বলেন, উনি কাজ করার সময় অসুস্থ হন। ৫-৭ দিন ধরে হাসপাতাল ছিলেন। আজ ভোরের দিকে মারা গেছেন। হৃদরোগে আক্রন্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। তার লাশ এখনও হাসপাতালে আছে। লাশ পোস্টমর্টেম করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না এমন কোনো বিষয় নেই।

এর আগে, গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ১০ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটে। সেই ঘটনার ১০ দিনের মাথায় আরেকটি ইয়ার্ডে এই মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে।