‘আগে বিদ্যুৎ বিল আসত ৩০০, এখন ২৫০০ টাকা’

খাগড়াছড়িতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় একই থাকলেও অনেক গ্রাহকের বিল এসেছে স্বাভাবিকের চেয়ে ছয় থেকে আট গুণ বেশি।
খাগড়াছড়ি বাজারের ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আগে তো এনালগ মিটার ছিল। তখন বিদ্যুৎ বিল আসত মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। আর এখন ডিজিটাল মিটার হওয়াতে বিল আসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মতো। এর মধ্যে যতবার টাকা রিচার্জ করি, মিটার অটো টাকা কেটে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত কয়েক মাস আগে বাসায় ডিজিটাল মিটারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছিলাম এক হাজার টাকা। গত মাসে এক হাজার টাকা রিচার্জ করার পর দেখি ১৫ দিন না যেতেই শেষ। মিটারে এই ভুতুড়ে বিল কাটার বিষয়টি বারবার বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।
এ ছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। তার মধ্যে প্রতি শনিবার গাছপালার ডালপালা কর্তনের অজুহাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। এর সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিলের চাপ তো আছেই।
খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী পার্থ দাশ জানায়, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের নিয়মিত ক্লাস করতে কষ্ট হয়। একই সঙ্গে রাতে পড়তে বসলে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ঠিকমতো পড়ায় মনোযোগ দিতে পারে না। অন্তত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে এবং রাতের বেলা সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে সে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিতরণ বিভাগ খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী কুন্তল সরকার বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। তার মধ্যে রাঙ্গামাটির সাজেক এবং লংগদুতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ খাগড়াছড়ি থেকে ডিস্ট্রিবিউট করা হয়। পাশাপাশি এটি একটি পার্বত্য অঞ্চল হওয়াতে গাছের ডালপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তারের ওপর পড়ে কিছুটা সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। একই সঙ্গে আমাদের জনবল কম হওয়ায় বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, জেলায় আমাদের চাহিদার চেয়ে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় বারবার লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করি, আমাদের জনবল নিয়োগ করা হলে জেলায় লোডশেডিং অনেকাংশে কমে আসবে।



