নওগাঁয় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

নওগাঁর ধামইরহাট ও মান্দা উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সংঘটিত দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। ধামইরহাটে নারী হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় দুজন এবং মান্দায় ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট ধামইরহাটের তালপুকুর মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে অজ্ঞাত নারীর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শনাক্তের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় নিহতের নাম মেরুনা বেগম।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, অনৈতিক সম্পর্কের টানাটানি ও বিয়ের চাপ প্রত্যাখ্যান করায় মেরুনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ১৮ আগস্ট রাতে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও তার সঙ্গীরা মেরুনাকে মোটরসাইকেলে নির্জন স্থানে নিয়ে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও তার সহযোগী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত আলামত জব্দ করেছে পুলিশ।
অন্য ঘটনাটিতে, পারিবারিক বিরোধের জেরে মান্দা উপজেলার শামুকখোলা গ্রামে নিজ ভগ্নিপতি মামুনুর রশীদকে কুপিয়ে জখম করেন শ্যালক ইসমাইল হোসেন। গত ১৫ আগস্ট ফজরের নামাজ চলাকালে সালাম ফেরানোর মুহূর্তে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনুর রশীদকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত ১৯ আগস্ট মহাদেবপুর থেকে ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত রক্তাক্ত হাসুয়া।
পুলিশ সুপার জানান, নৃশংস দুটি অপরাধের আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।



