logo
Advertisement

শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির এনসিপিতে যোগদান

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
শিবচর, মাদারীপুর
শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির এনসিপিতে যোগদান
ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান। ছবি: ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করেছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, মাদারীপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে এনসিপি। ঘোষিত এ কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান।

এদিকে, দল পরিবর্তন করায় ইয়াজ্জেম হোসেন রোমানকে নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে সমালোচনা চলছে।

সূত্রমতে, রোমান বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার পর তাকে জেলা কমিটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব দিয়েছে এনসিপি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, বিএনপির সাবেক নেতাকে এনসিপির জেলা নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে দল কী ধরনের যাচাই-বাছাই করেছে। তাদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে কী ধরনের সামঞ্জস্য খুঁজে পেয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

শিবচর উপজেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রোমান বিএনপিতে থাকা অবস্থায় নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন। এ কারণে তিনি বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তার এ অবস্থা। রোমান একজন সুবিধাবাদী লোক। যেখানে সুবিধা পাবেন, সেখানে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে ইয়াজ্জেম হোসেন রোমানের ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘নতুন রাজনীতি’ বনাম পুরোনো মুখ

মাদারীপুরে এনিসিপির কমিটিতে পুরোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ‘নতুন রাজনীতি’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় এক রাজনীতিক বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি আগে অন্য রাজনৈতিক দল করলে নতুন দলে আসতে পারবেন না, এমন কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু নতুন দল যখন পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের কথা বলে, তখন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, মনিরুল ইসলাম দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাকে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক করা হয়েছে। এটা দেখে সবাই বিস্মিত।

সার্বিক বিষয়ে এনসিপির মাদারীপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক মো. হাসিবুল্লাহি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা। তার আজীবন সংগ্রাম ছিল আওয়ামী লীগের জন্য। তিনি অভ্যুত্থানবিরোধী ছিলেন। জেলায় কীভাবে একজন আওয়ামী লীগের অনুসারীকে এনসিপির নেতা বানানো হলো। এটা জেনে আমরা বিস্মিত। দলের জন্য কাজ করলাম আমরা, নেতা হলো কে...?’