logo

বিডিআর বিদ্রোহে চাকরি হারিয়ে যান প্রবাসে, খুন হয়ে ফিরলেন কফিনে

বিডিআর বিদ্রোহে চাকরি হারিয়ে যান প্রবাসে, খুন হয়ে ফিরলেন কফিনে
নিহত খোরশেদ আলম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর চাকরি হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে ২০১৭ সালে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠা করেন লন্ড্রির ব্যবসা। নিজের উপার্জিত অর্থে কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে গড়ে তোলেন একটি কওমি মাদ্রাসা। স্বপ্ন ছিল পরিবারকে ভালো রাখা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবে ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হয়ে অবশেষে কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরলেন তিনি।

নিহত খোরশেদ আলম কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা গ্রামের হাজী আনছর আলীর বাড়ির মৃত হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে। শনিবার গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার দুপুরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরব থেকে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের পর খোরশেদ আলম চাকরি হারান। সে সময় তিনি খাগড়াছড়িতে কর্মরত ছিলেন। চাকরিচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করতে হয় তাকে। এরপর জীবিকার তাগিদে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সৌদি আরবের আভা শহরে প্রথমে একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ শুরু করেন খোরশেদ। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে কিছু অর্থ সঞ্চয় করে সেখানে একটি লন্ড্রির দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে ব্যবসার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। প্রবাসে থেকেও শিকড়ের টান ভুলে যাননি তিনি। নিজ এলাকার মানুষের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠা করেন একটি কওমি মাদ্রাসা। মাদ্রাসার শিক্ষা উপকরণসহ যাবতীয় ব্যয়ও বহন করতেন তিনি। তবে গত ১১ অক্টোবরের একটি ঘটনা থামিয়ে দেয় তার জীবনের সব স্বপ্ন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে সৌদি আরবে তার দোকানের বকেয়া টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক বাংলাদেশি কর্মচারীর সঙ্গে সুদানের দুই নাগরিকের বিরোধ ও মারামারি হয়। খবর পেয়ে বাসা থেকে দোকানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন খোরশেদ আলম। এ সময় সুদানের ওই দুই ব্যক্তি তার বুকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি পুলিশ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করে। বর্তমানে দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে ভিরাল্লা গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। লাশবাহী গাড়ি বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীও শোকাহত পরিবারের পাশে ছুটে আসেন।

নিহতের বড় মেয়ের জামাতা নাজমুল হাসান বলেন, আমার শ্বশুরের কোনো ছেলে সন্তান নেই। আমার স্ত্রীসহ চার মেয়ে। তারা এখন বাবাকে হারিয়ে নিঃস্ব। বিডিআর বিদ্রোহের কারণে তিনি বিনাদোষে চাকরি হারিয়েছিলেন। সরকার থেকেও কোনো সহযোগিতা পাননি। আমরা চাই, তার চাকরির পেনশনের টাকা দিয়ে সরকার যেন পরিবারটিকে সহযোগিতা করে।