logo
Advertisement

সুনামগঞ্জে ওয়ারিশ হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

এশিয়া পোস্ট নিউজ,সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে ওয়ারিশ হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন
রায় ঘোষণার পর পুলিশি নিরাপত্তায় আসামিদের আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় সংঘটিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার দীর্ঘ এক যুগ পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে ১১ আসামির মধ্যে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ওয়েজখালী এলাকার বাদশা মিয়া ও খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া। এ ছাড়া চারজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রাজা

মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। এর জেরে ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ওয়ারিশ আলী।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেওয়া হয়। তবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে এবং দুজন আসামি মারা যাওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ মামলাটি পরিচালনা করেন।