জবিতে ছাত্রদল-শিবির-ছাত্রশক্তির দফায় দফায় সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৭০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জুলাই আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান ঘিরে ছাত্রদল, শিবির ও ছাত্রশক্তির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি, জিএস, এজিএস ও সাংবাদিকসহ ৭০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন—বাংলা ট্রিবিউনের সোহায়েল আহমেদ, আজকালের খবরের কায়েস মাহমুদ, আমার সংবাদের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা স্ট্রিমের রজব আল ফাহিম, প্রাইম বাংলাদেশের মোহন খন্দকার।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মকবুল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিকেল ছয়টা পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনও অনেকেই আসছেন চিকিৎসা নিতে।
জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর প্রধান ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চ ও জকসু প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রোগ্রামস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল। পরে তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামের সামনেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় জকসু নেতাদের সঙ্গে ছাত্রদলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির মধ্যে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয়ের সংঘর্ষে আহতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নেন।
পরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসারতদের ওপর হামলা করে এবং মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় ছাত্রদল। এ সময় সামনে ছিলেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন। পরে পার্শ্ববর্তী ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিবির কর্মী ও সাধারণ রোগীদের ওপরও ৩ দফা হামলার অভিযোগ উঠে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
বিকেল ৪টায় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ২০ কোটি টাকার অস্থায়ী হল নির্মাণের টেন্ডার ছাত্রদলের নেতাকে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। আমরা ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে ২য় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর, আবাসন নিশ্চিতের দাবি জানাতে চেয়েছি। প্রোগ্রামে প্রবেশ করতে না পেরে আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। তখন প্রক্টর এসে বলেন, এখানে অবস্থান থেকে না উঠলে জোর করে তোলা হবে। পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক স্যার এসে বলেন, তোমাদের ছাত্রদলকে দিয়ে পিটিয়ে তুলে দেওয়া হবে। আমাদের অসংখ্য জকসু প্রতিনিধিসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনে সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ এসে ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। প্রশাসন তাদের বারবার নিবৃত করার চেষ্টা করে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা আমাদের দিকে তেড়ে আসে। তাই ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে শিবিরের সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি।
বিকেল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের কনফারেন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, আমি অনেক অনুরোধ করে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমাদের প্রোগ্রামে আসতে রাজি করিয়েছি। তার কাছে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরার প্রত্যাশা রেখেছিলাম। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দফায় দফায় ন্যাশনাল মেডিকেলে হামলা
জবি, কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল এবং স্থানীয় যুবদল মিলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালে আগত সাধারণ রোগী ও আহত শিবির কর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। পরে বিকেল ৫টায় আবারও হাসপাতালে হামলা চালায়। পরে বিকেল ৫টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে আবারও হামলা চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালে আগত অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
.png)


