logo

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট, কার্যক্রমে অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট, কার্যক্রমে অচলাবস্থা

চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এই কর্মসূচি শুরু করেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে বর্তমানে ১২টি জাহাজ রয়েছে। বহির্নোঙরে রয়েছে পণ্যবাহী অর্ধশতাধিক জাহাজ। এসব জাহাজে পণ্য খালাস হচ্ছে না। ধর্মঘট ঘিরে সকাল থেকে বন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে।

এর আগে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সংগ্রাম পরিষদের দুজন নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যান শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন। শক্তি প্রয়োগ হলে আরও কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আলোচনা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমানো যাবে না।

এর আগে, নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৮ ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন হয়। এরপর গত মঙ্গলবার শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।

পরে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এক বৈঠকের পর লাগাতার কর্মবিরতি দুদিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বন্দর। এতে বন্দর চেয়ারম্যানের (রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান) বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

সংগ্রাম পরিষদের দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান দাবি হলো—নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল কোনোভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া যাবে না, এ বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।