logo

প্যানেল চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে

প্যানেল চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড না দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় ভুক্তভোগী প্যানেল চেয়ারম্যান হলেন মির্জা সোহেল। তিনি উপজেলার মির্জা বাড়ি এলাকার মরহুম মির্জা সাখওয়াত হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আশিকুর রহমান তোলন বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ আসে। এ সময় বকশিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশেকুর রহমান তুলন সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সোহেলের কাছে কয়েকটি ভিজিএফ কার্ড দাবি করেন। তবে তিনি কার্ড দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী প্যানেল চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, আমাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান তুলন কল দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। আমি যাওয়ার পর সে বলে আমাকে কিছু কার্ড দিতে হবে। আমি বলি আমি তো পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান না, কীভাবে কার্ড দেব? এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে মারধর করে। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

বকশিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, প্রথমে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমার কাছে এসে সরাসরি কিছু ভিজিএফ কার্ড দাবি করেন। তখন আমি তাকে জানাই, এসব কার্ড দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ, তাই তাকে দেওয়া সম্ভব নয়। পরে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সোহেলকে ডেকে আনেন। সোহেল সাহেবও কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে কক্ষের বাইরে নিয়ে গিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়।

বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান তোলন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, মূলত একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ঝামেলা থেকে কথা কাটাকাটি হয়। এর বেশি কিছু হয়নি।

জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুরুল মোমেন আকন্দ কাউসার মোবাইল ফোনে বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। আপনার কাছ থেকে মাত্র জানতে পারলাম। দলীয় শৃঙ্খলা যে ভঙ্গ করবে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এক্ষেত্রে বিষয়টি কেউ আমাদের লিখিত বা মৌখিক জানালে আমরা প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বর্তমানে অভিযোগ ছাড়া এক্ষেত্রে করার কিছু নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইকে ফোন দিলে তিনি নেটওয়ার্ক সমস্যা বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।