মা-বাবাসহ কারাগারে ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স, সেফ হোমে বোন

পুলিশের ওপর হামলা ও থানার ওসিকে মেরে ফেলার হুমকির ঘটনায় করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার মা-বাবা ও বন্ধুসহ সাতজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রিন্সের বোনের বয়স কম হওয়ায় তাকে সেফ হোমে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন গ্রেপ্তার দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার মা শামী আক্তার পলি (৩৮), বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৫), প্রিন্সের বন্ধু ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওছার আহমদ সোহাগ (২১), দিরাই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ (২১), ধর্মপাশা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের শাহরিয়ার সাদি (১৯) ও সিলেটের ভাদেরশ্বর গ্রামের তাকরিব রহমান তানহির (২০)।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় ৩১ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আজ (রোববার) দুপুরে প্রিন্সের ছোট বোনকে বাদ দিয়ে প্রিন্স ও তার মা-বাবাসহ সাতজনকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক মো. জসিম উদ্দিন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সুনামগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক অজয় চন্দ্র দেব জানান, সুনামগঞ্জ সদর থানা-পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার সাতজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালতের বিচারক সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। বিকেলে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে প্রিন্সের বোনের বয়স কম হওয়ায় তাকে শিশু আদালতে সোপর্দ করা হয়। শিশু আদালতের বিচারক মাসুদুর রহমান তার জামিন নামঞ্জুর করে সেফ হোমে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রিন্সের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছায়াদুর রহমান তালুকদার।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে সদর থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করেন। প্রিন্সের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী, মা ও বোন প্রিন্স মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন।
এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই রাতেই প্রিন্সকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে বলেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবার।
এরপর প্রিন্সের ছোট ভাই ফাহিম রাজা চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে সদর মডেল থানার ওসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে ক্ষতিসাধন ও প্রাণে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সিলেট থেকে প্রিন্সসহ সবাইকে গ্রেপ্তার করে।