স্পিকারের নাম ভাঙিয়ে যুবদল নেতার চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ীকে মারধর

ভোলার তজুমদ্দিনের চর মোজাম্মেল চরে স্পিকারের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা শাহজাহানের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় মাছ ব্যবসায়ী মনজুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ক্যাশ বক্স থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মনজুর দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রোববার মনজু বাদী হয়ে তজুমদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় শাহজাহান, আলমগীর, আব্বাস, আলমগীর, সুমন, সোহাগ, বিটু, জাকির, শেখ ফরিদ ও পারভেজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জিম্মি করে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদের বীর বিক্রম নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন যুবদল নেতা শাহজাহান। তার নেতৃত্বে চরে একটি দল গড়ে উঠেছে। ওই দলের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায়, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি দেখান। এতে চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
ভুক্তভোগী স্থানীয় মৎস্য ও জেনারেটর ব্যবসায়ী মো. মনজু বলেন, যুবদল নেতা শাহজাহান চরে স্পিকারের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড করছেন। শাহজাহান নিজেকে স্পিকারের লোক পরিচয় দিয়ে বলে আসছেন, স্পিকার তাকে এই চরের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তার কথামতোই চর চলবে। এই পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চর মোজাম্মেলের মুক্তিযোদ্ধা বাজারে আমার মাছের আড়ৎ ও জেনারেটরের ব্যবসা রয়েছে। ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহজাহানের একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলা চালায়। এতে আমার ডান হাত ভেঙে গেছে। পরে ক্যাশ বক্স থেকে মাছ বিক্রির ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেটি দোকানের বাইরে ফেলে দেয়, দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। হামলার পর স্থানীয়রা মনজুকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মনজুর অভিযোগ, শুধু তিনি নন, চর মোজাম্মেলের আরও অনেক মানুষ একই ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যারা স্পিকারের নাম ভাঙিয়ে চরের নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাননীয় স্পিকারের কাছে চরবাসীর পক্ষ থেকে দাবি জানাই।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা শাহজাহান। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি চক্র মিথ্যা অভিযোগ তুলে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চাইছে। তার দাবি, চরের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
ভোলা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম ভিপি জানান, তজুমদ্দিন উপজেলায় যুবদলের কোনো পূর্ণাঙ্গ ঘোষিত কমিটি নেই। এরপরও কেউ যদি যুবদলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অপকর্ম, চাঁদাবাজি কিংবা অনিয়মে জড়িত থাকে এবং তদন্তের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুবদলে কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থে অপকর্ম করলে তার দায় দল নেবে না এবং প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চরাঞ্চলসহ বিভিন্নস্থানে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা কোনো ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে বিএনপির কঠোর অবস্থান রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত নিরীহ ও শান্তিপ্রিয়। তাদের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে বিএনপি বদ্ধপরিকর।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, চর মোজাম্মেলে মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মনজুর ওপর হামলার ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মনজু বাদী হয়ে তজুমদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন।
মামলাটি থানায় তদন্তের জন্য আসার পর তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।