চার বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু ওবায়দা এই রায় দেন।
শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার তিন মাসের মাথায় এই রায় দেওয়া হলো। এর আগে, মামলার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়। এতে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করে এবং লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।
ফাহিমা আক্তার সিলেট সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
চলতি বছরের ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাতে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। ধর্ষণচেষ্টা করে শিশুটি অচেতন হওয়ায় গলাটিপে তাকে হত্যা করে বলে স্বীকারোক্তিতে জানান জাকির।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুল আহমদ চৌধুরী বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে সিলেটের আদালতে একটি উদাহরণ সৃষ্টি হলো। এমন ঘৃণ্য অপরাধ করে কেউ ছাড় পায় না, আজকের রায় তারই প্রমাণ।
ফাহিমা আক্তারের বাবা রাইসুল হক আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।



