logo

‘ভাই বিএনপির এজেন্ট ছিলেন, পদ আছে স্বামী-শ্বশুরেরও’, নিয়োগ না পেয়ে সুমাইয়ার আক্ষেপ

‘ভাই বিএনপির এজেন্ট ছিলেন, পদ আছে স্বামী-শ্বশুরেরও’, নিয়োগ না পেয়ে সুমাইয়ার আক্ষেপ
সুমাইয়া তাসনীম ইমু। ছবি : এশিয়া পোস্ট

গর্ভাবস্থায় থেকেও পড়াশোনা চালিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সুমাইয়া। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতও হয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় নিয়োগপত্র পাননি সুমাইয়া।

আক্ষেপ করে সুমাইয়া বলেন, ‘আমাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, বুঝলাম না। আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। আমার ভাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট ছিলেন। আমার স্বামী, শ্বশুর ও ভাই বিএনপির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। আমার শ্বশুর বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটির সঙ্গে যুক্ত।’

সুমাইয়ার অভিযোগ, পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি ভেরিফিকেশনে প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন সুমাইয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও সুমাইয়া তা পাননি। এতে হতাশ হয়েছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমাইয়া। তিনি সাফা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে পিরোজপুর মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে গণিত বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সফলতার সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

গর্ভকালীনও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সুমাইয়া। নবজাতক সন্তানকে রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। সব ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতও হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে সুমাইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমি স্নাতক শেষ করে ঢাকা ফার্মগেট কোচিং করে পড়াশোনা করেছি। আমি অসুস্থ হয়ে বাড়ি এসেও পড়াশোনা চালিয়ে যাই। গর্ভকালীন অবস্থায় পড়াশোনা করি এবং নবজাতক শিশুকে রেখে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা দেই। এখন ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ না পাওয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা হতাশ। খবরটি শোনার পর পরিবারের সবাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হোক।

সুমাইয়ার দাবি, ভেরিফিকেশনের বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সুমাইয়া।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, বিষয়টি জেলা অফিস দেখবে। সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করলে তারা বিবেচনা করবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এটা তো প্রথম ধাপে। পরবর্তী ধাপে যাচাই-বাছাই করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।