logo

বান্দরবানে ভয়াবহ পানি সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, বান্দরবান
বান্দরবানে ভয়াবহ পানি সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন
ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে পৌরসভার উঁচু এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও করুণ আকার ধারণ করেছে।

বান্দরবান সদর পৌরসভার বাসিন্দা রিক্তা বেগম জানান, পানির সংকট এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছে যে পরিবার নিয়ে দুই থেকে তিন দিন পরপর গোসল করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। বাচ্চাদের সময়মতো গোসল করাতে না পারায় তাদের শরীরে চুলকানি ও বিভিন্ন ত্বকের রোগ দেখা দিচ্ছে।

রিক্তা বেগম ছাড়াও এমন দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার হাজারো মানুষ। পানির জন্য অনেককে দূর-দূরান্তে যেতে হচ্ছে, কেউ কেউ ট্যাংকারের পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলা উদ্দীন মনে করেন, এই সংকটের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণই বেশি দায়ী। তার ভাষায়, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, ব্যাপক বন নিধন, প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটসহ নানা কারণে পাহাড়ি ঝর্ণা ও প্রাকৃতিক পানির উৎস দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জলচক্র ব্যাহত হচ্ছে এবং পানির সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট শুধু দৈনন্দিন জীবন নয়, জনস্বাস্থ্যেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। ত্বকের রোগ, পানিবাহিত রোগ, অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই জরুরিভিত্তিতে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ করা, বন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা করা এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) বান্দরবান কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, পাহাড়ি এলাকায় উঁচু স্থানে পানি সরবরাহ করা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাইপলাইন সম্প্রসারণ, নতুন জলাধার নির্মাণ এবং আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার কাজ চলমান রয়েছে।