‘বৃষ্টি নেই, তেলও মেলে না’ দুশ্চিন্তায় কৃষক

আমরা কৃষক মানুষ, আকাশে বৃষ্টি নাই, পাম্পেও তেল দেয় না-আমরা বাঁচমু কেমনে? হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার মিয়া।
সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠের মাঝখানে সেচযন্ত্রের পাশে বসে আছেন তিনি। চলতি মৌসুমে চার একর জমিতে ভুট্টা ও করলার চাষ করেছেন। কিন্তু টানা কয়েক দিন ধরে ডিজেলের অভাবে সেচ দিতে না পারায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, গাছ মরে যাওয়ার উপক্রম।
আনোয়ার মিয়া বলেন, কয়েক দিন ঘুরেও এক-দুই লিটারের বেশি তেল পাই না। সারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। আমরা কার কাছে বলব, সরকার না জনগণ?
তিনি জানান, চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকায় সেচের একমাত্র ভরসা ডিজেলচালিত পাম্প। কিন্তু তেলের সংকটে সেটিও অচল হয়ে পড়েছে।
একই গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এক একর জমিতে কাঁচা মরিচ ও শসার চাষ করেছেন। কয়েক দিন সেচ দিতে না পারায় গাছ নুয়ে পড়েছে। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গাছের পরিচর্যা করতে করতে তিনি বলেন, দুই-তিন লিটার তেল পাই, তাও বেশি দামে। ফসল নষ্ট হলে ঋণ শোধ করব কীভাবে?
স্থানীয় কৃষকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলেও এসে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের অস্থিরতায় কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আরেক কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আজ তিন লিটার তেল পাইছি। এই দিয়াই মেশিন চালাইতেছি, কতক্ষণ চলে দেখি।
টানা সেচের অভাবে জমির মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ধান ও বিভিন্ন সবজির গাছ নুয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ফসলের ক্ষতি শুরু হয়েছে বলে জানান কৃষকেরা।
কৃষক ফয়সল উদ্দিন বলেন, যতটুকু তেল পাইছিলাম, তা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা পানি দিছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই জমি আবার শুকায়। প্রয়োজনের সময় পানি দিতে না পারায় বড় ক্ষতি হইতেছে।
এ মৌসুমে টমেটো, করলা, ভুট্টা, ধান, শসা ও তরমুজসহ বিভিন্ন গ্রীষ্মকালীন ফসল আবাদ হয়েছে। তবে সেচের সংকটে এসব ফসল এখন ঝুঁকির মুখে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) জেসমিন জাহান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ডিজেলের কোনো সংকট নেই। বর্তমানে যে মজুত আছে, তা দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, কৃষকদের জন্য নির্ধারিত তেল সরবরাহের বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। কেউ তা অমান্য করলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলায় বর্তমানে ডিজেলচালিত সেচপাম্প রয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার এবং বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প ১৯ হাজার ৭০০টি।