ঝিনাইদহ বিআরটিএতে একসঙ্গে তিন কর্মকর্তা অনুপস্থিত, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা

ঝিনাইদহ বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে না পাওয়া এবং দাপ্তরিক কাজে ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। একাধিক কর্মকর্তা একই সময়ে অনুপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা মানুষ।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে ঝিনাইদহ বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেবা নিতে কার্যালয়ে আসছেন। কেউ এসেছেন ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ও নবায়ন, কেউ যানবাহনের নিবন্ধন, মালিকানা বদলি কিংবা ফিটনেসসংক্রান্ত কাজে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেখা পাননি।
দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস, মোটরযান পরিদর্শক সোহাগ হোসেন ও উচ্চমান সহকারী আবু সাঈদকে পাওয়া যায়নি।
সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত সময়ে অফিসে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে নানা ধরনের বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সভায় আছেন, আবার কখনো দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকার কথা জানানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কাজ না হওয়ায় অনেকে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে আসা রাকিব হাসান বলেন, সকাল থেকে মোটরসাইকেলের কাগজ নবায়নের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছি না। সরকারি অফিসে এসে এভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা খুবই কষ্টকর।
আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, অনলাইনে অনেক সেবা চালু হলেও বাস্তবে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। কিন্তু কর্মকর্তা না থাকলে সাধারণ মানুষ সেবা নেবে কীভাবে?
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ড. আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কর্মজীবন সরাসরি জড়িত। একটি সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তার প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ে।
বিআরটিএ ঝিনাইদহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি। মোটরযান পরিদর্শকও পারিবারিক কারণে ছুটিতে আছেন। অন্যরা কেন অফিসে আসেননি, তা আমি বলতে পারব না।
বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী তানভির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। একসঙ্গে এতগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে না থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।