logo

এক্সকাভেটর নিয়ে আইনজীবীর বাড়িতে তাণ্ডব, হামলায় আহত ৪

এক্সকাভেটর নিয়ে আইনজীবীর বাড়িতে তাণ্ডব, হামলায় আহত ৪
লালমনিরহাট শহরের বিডিআর হাট এলাকায় এক্সকাভেটর নিয়ে এক আইনজীবীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

লালমনিরহাট শহরের বিডিআর হাট এলাকায় দিনদুপুরে এক্সকাভেটর (ভেকু), লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক আইনজীবীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় জেলা জজ আদালতের আইনজীবী হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রুমিসহ চারজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় জেলা জজ আদালতের আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকালে আদালতের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন আইনজীবী হুমায়ুন কবির। দুপুরের দিকে দুর্গাপুরের আউয়াল মাস্টারের ছেলে রবিউল ও সম্রাটের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল এক্সকাভেটর নিয়ে তার বাড়ির সামনে আসে। পরে এক্সকাভেটর দিয়ে বাড়ির মূল ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

হামলার খবর পেয়ে হুমায়ুন কবির বাড়িতে ফিরে এলে হামলাকারীরা তাকে বাড়ির সামনের সড়কে ঘিরে ধরে। এ সময় তার আইনজীবীর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রুমিকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হুমায়ুন কবির বলেন, রবিউল ও সম্রাটের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন লোক অতর্কিতভাবে এসে আমার বাড়ি ভাঙচুর করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। তাদের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। কেন এ হামলা হয়েছে, তা বুঝতে পারছি না। হামলার সময় পুলিশকে বারবার ফোন করা হলেও তারা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি।

হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রুমি বলেন, আমার স্বামীকে রামদা ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে লাথি মারা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ও সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।