logo

অবশেষে মুখ খুললেন আমির হামজা

অবশেষে মুখ খুললেন আমির হামজা
মুফতি মো. আমির হামজা। ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া

নারীঘটিত কথোপকথনের অডিও-ভিডিও থাকার দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের দেওয়া বক্তব্যকে ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তার দাবি, আলেমদের সম্মানহানি করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার হাজরাদিঘী পশ্চিমপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আমির হামজা। তিনি সেখানে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা ওয়াজ করেন।

নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, রাত ১০টার দিকে মুফতি আমির হামজা মঞ্চে ওঠেন। তিনি এক ঘণ্টার বেশি সময় বক্তব্য দেন। মাহফিলে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, ‘ওরা আজ আলেমদের পেছনে লাগে। ওদের যদি আজ মোবাইল চেক করে দেখবেন... নাউজুবিল্লাহ। চরিত্র বলে কিছু আছে? চাটাচাটি করে এ পদটা যদি আজ না পেত, আমার মনে হয় রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে খাওয়া লাগত। ওর তো রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ারও যোগ্যতা নেই। ওর কী যোগ্যতা আছে, রাস্তা ঝাড়ু দিতে নেবে মানুষ? অথচ সে আজ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।’

রাশেদ খাঁনের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের পেছনে যারা লেগে থাকে, এদের কথা যেন আল্লাহ বন্ধ করে দেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একটা বদদোয়া করেছিলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার কারণে। আমি আওয়ামী লীগের সময় রিমান্ডে গিয়ে দেখলাম, ডিসি-এসপিরা আমাকে মোবাইলে শোনাচ্ছে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এক মহিলার সঙ্গে গল্প করছেন। একেবারে হুবহু মিলে যাচ্ছে ওনার কণ্ঠ। ওই সময় এআই প্রযুক্তি ইসরায়েলের কাছ থেকে এনেছিলেন হাসিনা। আমাকে বলছে, দেখ তোর হুজুর কী করে।’

আমির হামজা বলেন, ‘এখন আবার শুরু করছে আলেমদের বিরুদ্ধে। আমিও মুসাফির অবস্থায় কোরআন সামনে নিয়ে আল্লাহর কসম, এই বগুড়ার মাটিতে বদদোয়া দিয়ে গেলাম। আমাদের সম্মান নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, একটা অক্ষরের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে চারশ পৃষ্ঠা ওরা লিখেছিল। একটার সঙ্গেও কি মিল পেয়েছেন? এগুলো সব ভারত করিয়েছে। আজও যারা হক কথা বলতে চায়, তাদের থামিয়ে দিতে ঠিক ভারত এটা করছে। যারা চাটাচাটি করে, তাদের দিয়ে করাচ্ছে।’

এর আগে, গত ৬ নভেম্বর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আমির হামজার নারীসংক্রান্ত কিছু অডিও ও ভিডিও নিজের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, সেগুলো ফ্যাক্ট চেক করে তথ্যের সত্যতা পেয়েছেন। একই সঙ্গে কথোপকথনের কিছু অংশ প্রকাশ করে অডিওর লিংক মন্তব্যের ঘরে যুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

রাশেদ খাঁনের পোস্টে প্রকাশিত অডিওতে এক ব্যক্তিকে ক্ষমা চাইতে, অনুতপ্ত হতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের ওপর আমার কোনো রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, মানে কিছুই নেই। ওটুকু আমার শয়তানের ধোঁকায় হোক, নফসের জালে হোক, হয়ে যাওয়ার পরে আমি নিজেই অনুতপ্ত।’

তবে প্রকাশিত অডিওটির সত্যতা এবং এতে কথা বলা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে রাশেদ খাঁনের দাবি করা ভিডিওগুলোর বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

রবিউল ইসলাম

সম্পাদনা

রবিউল ইসলাম

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট