logo

ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা
ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আকাশ পরিষ্কার থাকায় উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা মিলেছে হিমালয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ৬টার দিকে ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজার থেকে দেখা মিলছে এই হিমালয় কন্যার।

লাহিড়ী বাজারের আনিস রহমান বলেন, প্রতি বছর দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে এর আগের বছর কুয়াশার কারণে তেমন দেখা যায়নি। এবার ঠাকুরগাঁওয়ে হালকা শীত পড়ছে তাই আজকে বিকেলে দেখা গেল পাহাড়টি। আমার মতো অনেকে দেখছে। আমাদের আর কষ্ট করে পঞ্চগড় যেতে হবে না।

আব্দুর রহমান বলেন, প্রতি বছর পঞ্চগড় যাই এই মনোরম পাহাড়টি দেখতে। আজকে লাহিড়ী বাজার থেকে দেখলাম। মনে হয় পঞ্চগড় থেকে দেখছি। অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধকর পাহাড়টি দেখতে ভালোই লাগছে।

২০১৩ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বুড়িরবাঁধ এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার ছবি প্রথম ক্যামেরাবন্দি করেন ফটোগ্রাফার রেজাউল হাফিজ রাহী। এর আগে শুধু পঞ্চগড় থেকে বিশেষ এক সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যেত।

ফটোগ্রাফার রেজাউল হাফিজ রাহী বলেন, ২০১৩ সালে বুড়িরবাঁধ এলাকায় পাখির ছবি তুলতে গিয়ে প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘার সর্বোচ্চ চূড়ার ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করি। এরপর তা ফেসবুকে পোস্ট করি। তারপর থেকেই মানুষ জেনেছে শুধু পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে নয়, ঠাকুরগাঁও থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়া দেখা যায়। ভারতের সিকিম ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত এ পর্বতের চূড়া অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ মাস পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা যায়। আজকেও দেখা গেছে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে মাঝে মাঝে দেখার সৌভাগ্য হবে।

লাহিড়ী বাজারের দোকানদার নাজমুল হোসেন বলেন, সকাল থেকে রোদ উঠছে আকাশ পরিষ্কার। আজ হঠাৎ করে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রথম ঠাকুরগাঁও লাহিড়ী বাজারে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কারভাবে দেখতে পেয়েছি। চোখ জুড়ানো সেই দৃশ্য আমার মতো অনেকজন দেখছে।

সবুর আলী নামে আরেকজন বলেন, প্রায় প্রতি বছর টাঙ্গন ব্রিজ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় দেখি আমরা। আজ হঠাৎ করে লাহিড়ী বাজার থেকে দেখলাম ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ছিল। তারপর আস্তে আস্তে ঝাপসা হতে থাকে। তবে শেষ বিকেলে সূর্যকিরণ আবার যখন তির্যক হয়ে পড়ে বরফের পাহাড়ে তখন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। আমরা অপেক্ষায় থাকি প্রতিবছর এ পাহাড়টা দেখার জন্য। গত বছর শীত বেশি থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া ভালোভাবে দেখা যায়নি। তবে এবার শীত কম থাকায় চূড়াটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। চমৎকার ও অপূর্ব সেই দৃশ্য। নিজের চোখকে বিশ্বাস করা যায় না এতটাই অপূর্ব।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, কয়েকদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের আকাশ পরিষ্কার রাতে হালকা ঠান্ডা আর দিনের বেলায় গরম। আজ হঠাৎ করে বিকেল বেলায় লাহিড়ী বাজার থেকে দেখা গিয়েছে হিমালয় কন্যা কাঞ্চনজঙ্ঘা। আমাদের সেই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে সদর বুড়ির বাধ ও টাঙ্গন ব্যারেজ থেকে দেখা যাবে এবার।