মাদকাসক্ত ছেলের নামে মামলা করায় বাবাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজসহ ওবায়দুল হক মজুমদার নামে এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তবে এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। পরিবারের দাবি, মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মামলা করায় প্রতিশোধ নিতেই বৃদ্ধ বাবাকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়েছে তার নিজের সন্তান।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে ছাগলনাইয়ার মহামায়া ইউনিয়নের পশ্চিম দেবপুর গ্রামে ওবায়দুল হক মজুমদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ তল্লাশির একপর্যায়ে বাড়ির একটি নির্মাণাধীন শৌচাগারের ছাদের ওপর থেকে একটি দেশীয় একনলা বন্দুক ও চারটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এরপর ওবায়দুল হক মজুমদারকে আটক করে বুধবার (২৯ এপ্রিল) ছাগলনাইয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ওবায়দুল হকের স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, তাদের ছেলে রুবেল চিহ্নিত মাদকাসক্ত। ইতোপূর্বে মাদক কেনা ও বখাটেপনার জন্য টাকা না পেয়ে রুবেল ও তার ভাই শিবলু তাদের বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর করে ঘর লুটপাট চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় ওবায়দুল হক নিজের ছেলেদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিলেন।
কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে রুবেল তার বাবাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সাজেদা বেগমের দাবি, ‘আমার ছেলে রুবেলই পরিকল্পিতভাবে ওই অস্ত্রটি নির্মাণাধীন বাথরুমের ছাদে লুকিয়ে রেখে র্যাবকে খবর দিয়েছে। মাদকাসক্ত সন্তানের কারণে আজ একজন বাবা জেলহাজতে।’
তবে এ বিষয়ে ওবায়দুল হক মজুমদারের ছেলেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওবায়দুল হক মজুমদার মহামায়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। একজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী ও জনপ্রতিনিধির এমনভাবে গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে এই ঘটনাকে মাদকাসক্ত সন্তানের চরম অবাধ্যতা ও নির্মম প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, র্যাবের পক্ষ থেকে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের পর ওবায়দুল হক মজুমদারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।