Advertisement

এক মাসের ছুটি নিয়ে দুই মাস অনুপস্থিত হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
এক মাসের ছুটি নিয়ে দুই মাস অনুপস্থিত হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার
হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার দুর্জয় দেওয়ানজীর দীর্ঘদিনের অনিয়মিত উপস্থিতি ও টানা অনুপস্থিতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এক মাসের চিকিৎসার ছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও দুই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এক মাসের ছুটির কথা বলে বিদেশে যান দুর্জয় দেওয়ানজী। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রায় চার মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।

ছুটি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্টোর কিপারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী শৈবাল সেন দাবি করেন, দুর্জয় দেওয়ানজী নিজে অসুস্থ থাকায় ছুটিতে আছেন। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. তাপস কান্তি মজুমদার জানান, দুর্জয়ের বাবা অসুস্থ থাকায় তিনি ছুটিতে রয়েছেন। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ছুটিতে যাওয়ার আগে দায়িত্ব হস্তান্তরের নিয়ম থাকলেও তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই পদে লোক না থাকায় স্টোর থেকে ওষুধ বিতরণ ও ওষুধের মেয়াদ পরীক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি স্টোরে কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সোহানিয়া আক্তার বিল্লাহ এশিয়া পোস্টকে জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই পদের কর্মকর্তা ছুটি কাটানোর বিষয়ে তিনি কিছুই অবহিত নন। ছুটির তদারকির বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত বলে জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার এশিয়া পোস্টকে জানান, সিভিল সার্জনের মাধ্যমে দুর্জয় দেওয়ানজীর ছুটির মেয়াদ ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছিল। তবে ছুটির বাড়তি সময়ও পার হয়ে যাওয়ায় তাঁকে দ্রুত কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তবে স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।